ইলন মাস্কের নতুন দলকে ‘হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর’ বললেন ট্রাম্প
-
আপলোড সময় :
০৭-০৭-২০২৫ ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন
-
আপডেট সময় :
০৭-০৭-২০২৫ ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন
ছবি- এপি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ জুলাই) এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করাটা একেবারেই হাস্যকর। যুক্তরাষ্ট্রে দুই-দলের যে রাজনৈতিক কাঠামো, তা বহু বছর ধরেই চলে আসছে। এর বাইরে নতুন দল গঠন করলে শুধু বিভ্রান্তি তৈরি হবে।
সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক ঘোষণা দেন, তিনি ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। এই দলের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত দুই রাজনৈতিক দল—রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—এর বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা। কয়েক সপ্তাহ ধরে মাস্ক এমন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহেই তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন।
ট্রাম্প ও মাস্ক একসময় ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে মাস্ক উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা করেছিলেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ট্রাম্প তার প্রশাসনে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি” (ডিওজিই) নামে একটি দপ্তর চালু করেন এবং মাস্ককে এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। এ দপ্তরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ব্যয় হ্রাস করা। তবে মাত্র ১৩০ দিনের মেয়াদে কাজ করার পর ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে মাস্ক পদত্যাগ করেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তা সময়ের সঙ্গে তীব্র বিরোধে রূপ নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একটি বহুল আলোচিত কর ও ব্যয় পরিকল্পনা আইনে পরিণত করেন, যা ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত। বিলটিতে করছাড় সংক্রান্ত কিছু ধারা রয়েছে, যা ইলন মাস্কের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। মাস্ক ওই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে এর বিপরীতে বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির আহ্বান জানান এবং ঠিক পরদিন ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প এই ঘোষণাকে হালকাভাবে না নিয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ লিখেন, দুঃখজনকভাবে ইলন মাস্ক এখন রেললাইন থেকে ছিটকে যাওয়া একটি ট্রেন দুর্ঘটনার মতো। তিনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, মাস্কের প্রস্তাবিত ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল বাধ্যতামূলক নীতি’ বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকলকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে বাধ্য করা হতো, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করত। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তিনি বরাবরই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এসেছেন এবং তার নতুন কর আইনে ইভি গাড়ির ওপর থাকা করছাড় বাতিল করা হয়েছে, যাতে জনগণ নিজের পছন্দমতো গ্যাসচালিত, হাইব্রিড বা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন কিনতে পারেন।
ট্রাম্প কর্তৃক স্বাক্ষরিত বাজেট আইনের আওতায় সীমান্ত নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি উৎপাদনে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য ও খাদ্য সহায়তা খাতে ব্যয় কমানো হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাস্কও এই বাজেট পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেন এবং এখান থেকেই তার রাজনৈতিক দল গঠনের পটভূমি তৈরি হয়।
ইলন মাস্কের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক জগতে সক্রিয় থেকেছেন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে এসেছেন। তবে ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার কড়া সমালোচনার পর মাস্কের এই নতুন দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
তবে এখনো মাস্কের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই সমালোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির এই দ্বন্দ্ব আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক
কমেন্ট বক্স